Deshdeshantor24com: Bangla news portal

ঢাকা রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

ভাঙনে হুমকির মুখে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

ভাঙনে হুমকির মুখে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা নদীতে বাড়ছে পানি। আর এতেই শুরু হয়েছে ভাঙন। পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে দৌলতদিয়া ৬ ও ৭ নং ফেরিঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি। গেল কয়েক দিনের ভাঙনে কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরসহ রাস্তা চলে গেছে নদীগর্ভে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস থাকলেও ঘাটগুলো স্থায়ীভাবে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেই।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ৬ ও ৭নং ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ৪০০ মিটার নদী গর্ভে চলে যায়। ভাঙন প্রতিরোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে নদীর পাড়ে। তবে, এলাকাবাসী স্থায়ী নদী শাসনের দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মোল্লা জানান, প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পরে শত শত একর আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বসতবাড়ি। গৃহহীন হয়ে অনেকে রাস্তার পাশে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে নদী শাসন না করলে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন একটি সময় নদী গর্ভে চলে যাবে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বারেক মৃধা বলেন, এই শুকনো মৌসুমে একাধিকবার ভাঙনে অনেক জায়গা ভেঙে গেছে। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৬ ও ৭নং ফেরিঘাট রক্ষার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র উদ্যোগ নেয়নি। সময় মত ব্যবস্থা নিলে আমরা ভাঙনের কবলে পরতাম না। শুধু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ফেরিঘাটসহ অনেক বসতবাড়ি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে চলে গেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, আমি সংবাদ পাওয়া মাত্র ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করছি, দ্রুতই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বালু ভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে দিচ্ছে। কিন্তু, কাজে অবহেলা রয়েছে। দায় সারাভাবে কাজ করছে তারা। গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সি বলেন, ‘যেভাবে কাজ করা হচ্ছে এতে ভাঙন রোধ সম্ভব না। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ অবহেলা ও দায় সারা কাজ দিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘৬ মে থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। টানা এক মাস চলমান রয়েছে ভাঙন। কিন্তু, ভাঙন রোধের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আশা করি, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জরুরিভাবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট রক্ষার উদ্যোগ নেবে। 


কেএ