Deshdeshantor24com: Bangla news portal

ঢাকা রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

'৭৫ বছরের পরে কি শিক্ষকদের বাঁচার অধিকার নাই'

'৭৫ বছরের পরে কি শিক্ষকদের বাঁচার অধিকার নাই'
ছবি সংগৃহিত

'সর্বজনীন পেবশন স্কিম নাম দেওয়া হলেও এই পেনশন স্কিমে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা অধিনস্থ প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর চরম বৈষম্য করা হয়েছে।

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষক ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশনের আওতাভুক্ত হবেন। এই ৭৫ বছর জীবনকালের পরে কি আর সেই শিক্ষকের বাঁচার অধিকার নাই? আবার এই প্রত্যয় স্কিমটি আমাদের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে অন্যান্য সরকারি, সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি আমলাতন্ত্র এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই স্কিম জারির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি চরম অবমাননা ও বৈষম্য করা হয়েছে।'

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে আআয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসকল কথা বলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তানভীর  রহমান। সোমবার (১০ জুন) দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তানভীর রহমানসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ড. তানভীর রহমান আরও বলেন, এই প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম পিছিয়ে পড়বে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্র সংকুচিত হবে। এটি আগামী দিনের তরুণ সমাজের স্বার্থরক্ষা তথা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ও জাতিকে মেধা শূন্য করার অপচেষ্টা। এটি আমাদের শিক্ষক সমাজকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটি চক্রান্ত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার স্বার্থে অনতিবিলম্ব এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাকৃবি শিক্ষক সমিতি এককভাবে ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাথে প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে। গত মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন সময় বিবৃতি প্রদান, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, কালোব্যাজ ধারন, মৌন মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করে আসছে। দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পহেলা জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে জানান তিনি। এসময় বন্ধ থাকবে সকল ক্লাস-পরীক্ষা।

শিক্ষক সমিতির  অন্যান্য সদস্যবৃন্দ জানান, প্রত্যয় স্কিম চালু করা হলে সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। একারণেই প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাথে একাত্মতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আগামী ২৫ থেকে ২৭ জুন অর্ধদিবস ও ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবে। এরপরও দাবি আদায় না হলে ১ জুলাই থেকে পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত হবে। 

এদিকে ২০ জুলাই কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষকদের দাবি না মানলে এবং এই আন্দোলন চলমান থাকলে কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষা হয়ত অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাবে এমন আশঙ্কাও জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সদস্যবৃন্দ। এসমসয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সুপার গ্রেড কার্যকর ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিও জানানো হয়।

এসময় বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, আমরা কর্মবিরতির মধ্যেও বিভিন্ন পর্যায়ের ফাইনাল পরীক্ষা ও অনলাইন ক্লাস চলমান রেখেছি। আমরা কখনোই আমাদের আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান রইলো যে তারা যেন আমাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভাবে। তাদের সাময়িক এই ক্ষতি আমরা পুষিয়ে দিতে পারব বলে আশা করছি।
এএজি