Deshdeshantor24com: Bangla news portal

ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

পহেলা বৈশাখ নিয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

পহেলা বৈশাখ নিয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
ছবি: দেশদেশান্তর ২৪.কম

বছর ঘুরে আবার আসছে পহেলা বৈশাখ। ১৪৩০ বঙ্গাব্দকে বিদায় দিয়ে ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বরণ করে নিতে প্রস্তুত গোটা জাতি। নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে অতীতের কথা ভুলে গিয়ে আমরা নতুনের আহ্বানে সঞ্জীবিত হয়ে উঠি। কিছু অসত্য, অসুন্দর, অশুভ আর অমঙ্গলজনক সে সবকে ঝেড়ে ফেলে সত্য, সুন্দর, ভালো আর মঙ্গলের জন্য অপেক্ষমাণ সবাই।

নতুন বছরকে কেন্দ্র তরুণ প্রজন্মেরও রয়েছে নানা কল্পনা-পরিকল্পনা আর আশা-প্রত্যাশা। আছে নানা চিন্তা-ভাবনা। তাদের সেই প্রত্যাশা আর ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এম এ হাসেম শাওন বলেন, পহেলা বৈশাখ মানে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের আবির্ভাব। পুরনো দিনের জরাজীর্ণতা পিছনে ফেলে নতুন দিনে নতুন উচ্ছ্বাসে নতুন বছর শুরু করার দিনটি পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য। এই দিনটি বাঙালির নববর্ষ উৎসব। বাঙালির জাতিসত্তা বিনির্মাণে এই দিনটির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ধারণা করা হয় সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে বাংলা সনের গণনা শুরু।সেই আবহমানকাল থেকে সাড়ম্বরে পালন করা হয় দিনটি।এটি এমন একটি উৎসব যেখানে জাতি,ধর্ম-বর্ণ সমস্ত বিভেদ ভুলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই অংশগ্রহণ করে।আমাদের সংস্কৃতি কত সমৃদ্ধ আর কত বিচিত্র তা আমরা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে দিয়ে দেখতে পাই। এই দিনে আয়োজন করা হয় হালখাতা,বৈশাখী মেলা, নৌকা বাইচ,ঘৌড় দৌড় এবং বিভিন্ন লোকজ মেলার।চারুকলা আয়োজন করে মঙ্গল শোভাযাত্রা,সংস্কৃতি সংগঠন ছায়ানট রমনার পাকুড়মূলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।ছেলেরা পাজামা - পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা নানা রঙের শাড়ি পরে পরিবেশ বর্ণিল করে তোলে।সমস্ত গ্লানি অশুভ শক্তি দূর করে আত্মশুদ্ধি, সম্প্রতি,সৌহার্দ্য আর অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনার মধ্যে দিয়ে দিনটির পরিসমাপ্তি ঘটে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী বিবি হালিমা জবা বলেন

কবিগুরুর গাওয়া গীতি ছায়ানটে তুলা সুর

রঙবেরঙের বৈশাখী সাজে আমেজ ভরপুর

পান্তা-ইলিশ বাঙালিয়ানায় মেতে উঠুক সবে

রদবদলের দিনটি আসুক সার্বজনীনভাবে 

পুরনো বছরের গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন ভাবনা ও নতুন স্বপ্নের প্রত্যাশা নিয়ে নতুনের কেতন উড়িয়ে আজ বাংলা ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ বাংলা সনের প্রথম দিন দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভ নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের কিছু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ও উৎসবটি পালন দৃশ্যমান। অতীতে শুধু মাত্র কৃষিকাজ এবং হালখাতা ছিলো এ উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু প্রাযুক্তিক যুগ শুরুর পর থেকে বৈশাখকে কেন্দ্র করে মঙ্গল শোভাযাত্রার সাজসজ্জা, কৃষক-কৃষানির সাজ, নানা রকমের দৃশ্যের র‌্যালি, বরবধূ সাজা, পরি সাজা, নতুন পোশাক পরা, দোকানে দোকানে হালখাতা, মিষ্টি খাওয়া, বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার, বর্ণিল সাজ, গাড়োয়ান সাজা, মাঝিমাল্লা সাজা, জাল হাতে জেলের সাজ এবং বৈশাখী মেলা হয়ে থাকে। বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পান্তা-ইলিশ। যেন এ পান্তা-ইলিশ না হলে আর পহেলা বৈশাখের কোনো আমেজই থাকে না। বেশ তো এ সুযোগে রমনার লেকের পারেই অনেকে বসে পড়েন ইলিশ-পান্তা খেতে। সঙ্গে থাকে কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ। মানে সম্পূর্ণভাবেই বাঙালিয়ানার বিজয় প্রতীকী। রমনার বটমূল পেরিয়ে পুরো রাজধানীজুড়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এই বর্ষবরণের অনুষ্ঠানমালায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। 

পহেলা বৈশাখের দিন সকাল গড়িয়ে যখন রমনা টিএসসি শাহবাগে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে, তখন শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।

গাছে গাছে যেমন শীতের শেষে সবুজ পত্রালি ঝরে যায় আবার বসন্তে নতুন পাতা গজায় তেমনি মানুষের জীবনেও একই রূপ ভেসে আসে বর্ষবরণের মধ্য দিয়ে। 

কবিগুরুর ভাষ্যে-

"তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষু রে দাও উড়ায়ে

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক"!

পুরনো দিনের অবসান ঘটিয়ে এবারের নববর্ষ জাতীয় ও সামাজিক স্তরে মানুষের জীবনে বয়ে আনুক কল্যান, শান্তি ও প্রাচুর্য.. নববর্ষে এটাই আমার প্রত্যাশা। সবাইকে শুভ নববর্ষ ১৪৩১।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা আলম আঁখি বলেন, এ দিবস যেন পুরনো গ্লানিকে ভুলিয়ে বৈশাখের আগমন ঘটায়। এ দিবস কোনো নির্ধারিত জাতি,বর্ণের নয় বরং বাঙালির সারা বছরের অপেক্ষার শুভক্ষণ।

বাঙালিদের নিকট এ দিবসের মূল আকর্ষণ পান্তা,ইলিশ। আর সাথে যুক্ত হয় পেঁয়াজ,কাঁচামরিচ।এছাড়াও মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙ্গালিদের অন্যতম আকর্ষণ!রমনার বটমূল থেকে শুরু হয় র‍্যালি। র‍্যালিতে বাঙ্গালিরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে থাকে..মহিলারা শাড়ি,পুরুষেরা লুঙ্গি,ফতুয়া পরে থাকে।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকার বৈশাখ মাসের ১ তারিখ যা ইংরেজি বর্ষপঞ্জির ১৪ই এপ্রিল এ পালিত হয়ে থাকে। এ দিবসে পালিত হয় "বৈশাখী মেলা"। যেখানে বিক্রি করা হয় বাঙ্গালিদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক,খাবার,মাটির হাঁড়ি-পাতিল।হরেক রকমের আয়োজন এর মাধ্যমে পালিত হয় এ মেলা। বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলের ভিড়ে এ মেলা মুখরিত হয়।ব্যবসায়ী রা তাদের পুরনো হিসাবের খাতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন হালখাতার আয়োজন করে থাকে।পুরনো ঝামেলা,হিসাব কে দূরে সরিয়ে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে একে-অপরের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করে থাকে।

অতীতে কৃষি এবং হালখাতা দিয়ে এ দিবসের সূচনা হলেও বর্তমানে এর আয়োজন বিস্তৃত আকারে লক্ষণীয়।জায়গায় জায়গায় পালিত হয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রতিযোগিতা,বিভিন্ন কুইজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে বাঙ্গালিদের ঐতিহ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা। 

আজ বাংলা ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,পহেলা বৈশাখ। সকলের অতীতের কালোছায়া মুছে পরিবার,পরিজন নিয়ে সুন্দর,শান্তির,সমৃদ্ধির পথ ধরে জীবন বয়ে চলুক এক প্রাণোচ্ছ্বল এবং উজ্জীবিত স্রোতের ন্যায়। এই প্রত্যাশায় সকলকে জানাই শুভ নববর্ষ ১৪৩১।

 
এমআইপি