শিশু আছিয়া'র মৃত্যুতে যবিপ্রবিতে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ-মিছিল

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশু আছিয়া'র মৃত্যুতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রব) গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসাথে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বৃহষ্পতিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটায় যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এ গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের মূল সড়ক হয়ে প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে বিক্ষোভ-মিছিলটি শেষ হয়।
যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের সমাজে যে হারে ধর্ষণ বেড়ে গেছে এজন্য আমাদের যাদেরই মেয়ে সন্তান আছে আমরা সবাই আতঙ্কিত। এখন প্রশ্ন হলো এটার সমাধান কি? উদাহরণস্বরূপ যদি কোনো অসুখ হয় তবে দুইভাবে সমাধান করা যেতে পারে। প্রথমত রোগ প্রতিরোধ করা। দ্বিতীয়ত নিরাময়ের ব্যবস্থা করা। এখন আমাদের সমাজে যেভাবে অপরাধ বেড়ে গেছে এখন নিরাময় ব্যবস্থা করতে হবে। যেটা কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ছাড়া সম্ভব না। আমি মনে করি আমাদের দেশের আইনের দুর্বলতা আছে। আমি মনে করি ধর্ষকের মতো অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে কেউ এমন অপরাধ করতে গেলে তার অন্তর কেপে যাবে, যে এই অপরাধের শাস্তি কি ভয়ঙ্কর হতে পারে! সর্বশেষ আমি আছিয়ার ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।
বিক্ষোভ-মিছিলে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বোন আছিয়ার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। মাগুরার শিশু আছিয়ার ধর্ষকদের দ্রুত প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া ভবিষ্যতে ধর্ষকদের পাথর নিক্ষেপ করে শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা চাই বাংলাদেশে এমন আইন বাস্তবায়ন করা হোক যে বা যারা ধর্ষণের মতো অপরাধমূলক কাজ করে, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে পাথর নিক্ষেপ করে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে দ্বিতীয়বার কেউ এমন অপরাধ করার আগে ভাবে।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ২৪ এর আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তবে এখনো কেন ৭২ এর সংবিধানের আইন চলবে? কেন ধর্ষকের শাস্তি পেতে ১৮০ দিনের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে? আমরা চাই দ্রত বিচারকার্যের মাধ্যমে ধর্ষককে প্রকাশ্যে পাথর নিক্ষেপ করে শাস্তি দেওয়া হোক।
টিএ