প্রায় ৫ ঘন্টা সড়ক অবরোধের পর হলে ফিরলেন শিক্ষার্থীরা

গণরুম বাতিল করে হলে স্থায়ী কক্ষ বরাদ্দ এবং সিংগেল বেডের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দলোনে নামেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সুলতানা রাজিয়া হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত প্রায় বারোটা পর্যন্ত হলের সামনের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। সাড়ে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর বারোটার দিকে হলে ফিরে যান তারা।
দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে বুধবার সাতটার দিকে হলের সামনের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা 'গণরুম নাকি জেল, প্রশাসনের নাকে তেল' , 'হলে হলে বৈষম্য, চলবে না চলবে না', 'সিঙ্গেল বেডে দুইজন করে, থাকব না থাকব না' ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, দ্রুত গণরুম থেকে সরিয়ে নিয়মিত কক্ষে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। হলে আসন দিতে সময় লাগলে অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে এক বেডে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনের একপর্যায়ে ঘটস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, প্রক্টরিয়াল টিমের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এসময় শিক্ষার্থীরা আসন্ন এপ্রিল মাসের মধ্যে তাদেরকে সিঙ্গেল বেডের আসন দিয়ে গণরুম বিলুপ্তকরণ এবং সিট সংকট দূর করার বিষয়ে লিখিতভাবে দাবি উত্থাপন করেন। এসময় তারা সিট সংকট দূর করার বিষয়ে প্রশাসনকে কিছু পরামর্শও দেন। তাদের সিটজনিত সংকট এবং গণরুমের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সরাসরি দেখানোর জন্য সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক সোনিয়া সেহেলীকে গণরুম পরিদর্শনে নিয়ে যান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। এই মুহূর্তেই তাৎক্ষনিকভাবে এর সমাধান করা জটিল। তবে আসন্ন এপ্রিল মাসের মধ্যে আমরা তাদের আবাসন সংকট দূর করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যে পরামর্শগুলো এসেছে সেগুলোও বিশেষ বিবেচনায় রাখা হবে। সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রাধ্যক্ষ পরিষদ এবং উপাচার্যের সাথে আলোচনা করা হবে। এপ্রিলের মধ্যে চারটি হলের মধ্যে সমন্বয় করে আসন বিন্যাস করে বা অন্য কোনো উপায়ে চেষ্টা করা হবে যাতে আসন সংকট কিছুটা হলেও নিরসন করা যায়।
আসন সংকট নিরসনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন থামিয়ে হলে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।
এএজি