Deshdeshantor24com: Bangla news portal

ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

জাবিতে ছাত্রলীগের নারকীয় তান্ডবের এক বছর: শেষ হয়নি বিচারকার্য

জাবিতে ছাত্রলীগের নারকীয় তান্ডবের এক বছর: শেষ হয়নি বিচারকার্য

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নারকীয় হামলার এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। হামলার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো হয়নি চূড়ান্ত বিচার।

ঠিক এক বছর আগে এই দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমান হলের (বর্তমান ১০ নং) সামনে পৌঁছালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীদের উপর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক এবং সাংবাদিক আহত হন।

প্রাথমিক হামলার পর শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

এরপর রাত ৯টায় হামলার ঘটনার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, তবে তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যায়।

সেদিন রাত যত গভীর হচ্ছিল পরিস্থিতিও খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছিল। রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আশপাশের গেরুয়া, জামসিং, ইসলামনগর, আশুলিয়া ও সাভার এলাকা থেকে পিকাপ—ভ্যানে করে বহিরাগতদের নিয়ে আসে। রাত ১২টা ৫০ মিনিটে দেড় শতাধিক হামলাকারী ভিসির বাসভবনের মূল ফটকের ওপারে অবস্থান নেয় এবং পেট্রলবোমা, কাঁচের বোতল ও ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। তাদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট এবং হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।

সেই সময় ভিসির বাসভবনের ভেতরে শিক্ষকদের পাশাপাশি অসংখ্য শিক্ষার্থীও অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই রাত ১টা ৫০ মিনিটে হামলাকারীরা ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর চালায়। তারা লাইট ভেঙে দেয়, শিক্ষার্থীদের পেটায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তখনই প্রশ্ন উঠে, কারণ তারা প্রথমদিকে কোনো বাধা দেয়নি। পরে শুধু কিছু হামলাকারীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য হল থেকে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় ছাত্রলীগ পিছু হটে, তবে পুলিশ তখন আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল, ছররা গুলি ও লাঠিচার্জ করে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত বিচার হয়নি। হামলার কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি, দোষীদের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কার ছাড়া নেওয়া হয়নি আর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এতে আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।  

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, জুলাইয়ের একবছর হলেও হামলাকারী ছাত্রলীগের বিচার গণঅভ্যুত্থানের প্রোডাক্ট বলে দাবি করা প্রশাসন এখনো করতে পারে নি৷ বিভিন্ন সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে হামলাকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশা দিয়েছে প্রশাসন। বিচারকে বিভিন্ন সময়ে জাকসু নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এই একবছরে ও বিচার না হওয়ার ফলাফল আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। পতিত স্বৈরাচারের সন্ত্রাস বাহিনী জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান সোহেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ আর্বতনের শিক্ষার্থীদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত যোগাযোগের চেষ্টা করছে। স্বৈরাচারের এভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা ব্যহত হতো যদি প্রশাসন বিচার প্রক্রিয়া এতো দীর্ঘায়িত না করতো।

সেদিন ভিসির বাসভবনে আটকা পড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, প্রোভোস্টসহ দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই পরিকল্পিতভাবে হামলাটি চালানো হয়েছিল। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ও বহিরাগত ভাড়াটে হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব সমর্থন পেয়েছিল বলেই তারা এমন নারকীয় তাণ্ডব চালাতে পেরেছিল। হামলার সময় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেন তারা কেবল দর্শক।

তিনি আরও বলেন, এই বর্বর হামলার এক বছর পার হলেও এখনও কোনো বিচার হয়নি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এখন সময় এসেছে ভাববার—বর্তমান প্রশাসন কি হামলাকারীদের আড়াল করতে চাইছে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ ব্যাচের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, ১৪ জুলাই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর আক্রমণ চালায়। সেই হামলায় আমি নিজেও আহত হয়েছিলাম। কিন্তু এর চেয়েও ভয়াবহ দৃশ্য আমরা দেখেছি ১৫ জুলাইয়ের কালরাতে। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর ছাত্রলীগের ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রামদা, চাপাতি ও পেট্রল বোমা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়ানক হামলা চালায়। এমনকি আমরা যখন উপাচার্যের কাছে বিচার চাইতে যাই, তখন সেখানেও আমাদের ওপর হামলা হয়। ওই রাতে শিক্ষক, সাংবাদিক ও বহু শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হন।

আহসান লাবিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই নারকীয় ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের বিচার হয়নি। তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ব্যর্থতা আমাদের হতাশ করে। যদি জাবি প্রশাসন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের এবং হামলার পেছনে থাকা দায়ী শিক্ষকদের বিচারের আওতায় না আনে, তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নামব।

তদন্ত কার্যক্রম ও বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, জুলাইয়ের হামলার তদন্ত ও বিচারের কার্যক্রম প্রতিদিনই চলছে। আমরা আশা করছি শিক্ষার্থীদের বিচার কার্যক্রম পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। শিক্ষকদের বিচার কার্যক্রমও এগিয়েছে। আমরা পরবর্তী মিটিংয়ের সময়ও ঘোষণা করেছি। এই কার্যক্রমে আমাদের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।

 
কেএ

নামাজের সময়সূচী

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
Masjid
ফজর ৪:৪১
জোহর ১২:০৯
আসর ৪:২৯
মাগরিব ৬:১৪
ইশা ৭:২৮
সূর্যোদয় ৫:৫৬
সূর্যাস্ত ৬:১৪