অর্থনৈতিক মুক্তির রোল মডেল শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ভৌগোলিক মুক্তির রোল মডেল, আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক মুক্তির রোল মডেল। শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির সব সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। চাল উৎপাদন, সবজি উৎপাদনে আজ বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ স্থানে। জনবল রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম। শিল্প ক্ষেত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এ পরিবর্তনকে এগিয়ে নিতে হবে। আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতবর্ষ ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছেনস
অনেকেই প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের এ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ম্যাজিক বা রহস্য কী? এর উত্তর খুঁজলে বর্তমান সরকারের নানা ইতিবাচক উদ্যোগের কথা সামনে চলে আসবে। অন্যতম হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সততা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সামগ্রিক দর্শন যার রয়েছে। সর্বোপরি রয়েছে তাঁর পরিবারের দুই বোনের পাঁচ সন্তানের মেধা, সততা এবং নির্লোভ ব্যক্তিত্ব। এ নিয়ে অনেক আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু যে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়া দরকার সেটি হচ্ছে- মানবতাবাদী দার্শনিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নীতি কৌশল। এ নীতি শুধু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে নয়, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করায় বড় অবদান রাখছে। আর্থিক প্রযুক্তির বর্ধিত ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে শক্ত অবস্থান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ফলে অর্থব্যবস্থায় পদ্ধতিগত পরিবর্তন ঘটছে, যা মূলত টেকসই উন্নয়নের অনুঘটক। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান প্রণয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, একটি দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরির জন্য ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের বিভিন্ন উদ্যোগ, সংস্কার, আইনি বিধিবিধান ইত্যাদি গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংসযজ্ঞ পুনর্গঠন, ১ কোটি দেশ ছাড়া মানুষের পুনর্বাসন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খাদ্যাভাব ইত্যাদি কাটিয়ে ওঠার জন্য অর্থনৈতিক ও জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে একটি সম্ভাবনার স্তরে উন্নীত হয়। নিঃসন্দেহে বলা চলে, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে যে ধারার সূচনা করেছিলেন তাতে ছিল উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং পথচলা।
জাতির পিতার ছিল শোষণহীন সমাজ গঠনের আদর্শ, এর জন্য তিনি অর্থনৈতিক সমাজব্যবস্থার সংস্কার এবং জনজাগরণের নতুন ধারার রাজনীতি প্রবর্তন করেন। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন সেটি তাঁর সরকারব্যবস্থা পরিচালনা, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং এ সম্পর্কীয় বক্তৃতাগুলোতে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চরিত্রই পাল্টে ফেলা হলো। সামরিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাবাদর্শ বাংলাদেশে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। সে কাজটি ১৯৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিল। আর এ জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কোনো উন্নয়ন কৌশল যেমন নির্ধারণ করতে পারেনি, আবার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ঘটানোর মতো তেমন কোনো ব্যাপক সংস্কার সাধন করতে দেখা যায়নি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শ পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশ উন্নয়ন কৌশলে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসন, উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন সব কৌশল গৃহীত হয়।
আওয়ামী লীগ একটি গণমুখী দল। এ দলের লক্ষ্য ক্ষমতায় গিয়ে ভোগের নয়, মানুষের সেবা করার। সেই লক্ষ্য ও ব্রত নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। এ কর্তব্য থেকে আওয়ামী লীগ একটুও পিছপা হয়নি। আওয়ামী লীগ একদিকে গণসংগ্রামের ঐতিহ্য বহন করে, অন্যদিকে সেবার ব্রত নিয়ে সরকার পরিচালনা করে। সুতরাং শেখ হাসিনা আমাদের সব নির্ভরতার ছায়া।
ডব্লিউটি